জলঢাকায় ভুয়া আহত দেখিয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণের অভিযোগ, ইউএনও বরাবর লিখিত দরখাস্ত

Jan 12, 2026 - 18:03
জলঢাকায় ভুয়া আহত দেখিয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণের অভিযোগ, ইউএনও বরাবর লিখিত দরখাস্ত

জলঢাকা ( নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

জুলাই আন্দোলনে ভুয়া আহত দেখিয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণের তালিকায় গুরুতর অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায়। এ ঘটনায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) “জুলাই বিক্রেতা বিরোধী ঐক্য, জলঢাকা”-এর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত প্রদান করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আব্দুল্লাহ আল হাদী, মনিরুজ্জামান মিঠু, ইকবাল জিয়াদ ও আদম শাহরিয়ার-এর নেতৃত্বে দরখাস্তটি ইউএনও কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলনে জলঢাকা উপজেলা থেকে মোট ২৪ জনকে আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ৬ জন ঢাকায়, ২ জন রংপুরে এবং বাকি ব্যক্তিরা জলঢাকায় আহত হয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ জনগণের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জলঢাকায় প্রকৃতপক্ষে ৩ থেকে ৪ জনের বেশি কেউ আহত হননি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় কিংবা ঘটনার পরবর্তীতেও তালিকাভুক্ত অনেক ব্যক্তিকে কোথাও আহত অবস্থায় দেখা যায়নি। এতে প্রকৃত আহতরা যেমন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি ভুয়া তালিকার মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে।

দরখাস্তে ভুয়া তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই, প্রকৃত আহত ও ভুয়া দাবিদারদের আলাদা করে শনাক্ত করা এবং ভুয়া আহত সেজে সরকারি ভাতা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

এর আগে একই দাবিতে গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জলঢাকা উপজেলার ব্যস্ততম এলাকা জিরো পয়েন্ট মোড়ে ভুয়া জুলাই আহত ভাতা প্রাপ্তদের গেজেট বাতিলের দাবিতে একটি পথসভা ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। “জুলাই বিক্রেতা বিরোধী ঐক্য, জলঢাকা”-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ভুয়া আহত দেখিয়ে গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি ভাতা গ্রহণ করা হলে তা প্রকৃত আহতদের প্রতি চরম অবিচার এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সরাসরি অপচয়। অবিলম্বে ভুয়া তালিকা ও সংশ্লিষ্ট গেজেট বাতিল না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

দরখাস্তকারীদের পক্ষে নেতৃবৃন্দ বলেন,“ভুয়া আহত দেখিয়ে ভাতা নেওয়া শুধু অনৈতিকই নয়, এটি প্রকৃত আহতদের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা এবং সরকারি অর্থের মারাত্মক অপব্যবহার।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “লিখিত দরখাস্তটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া তালিকা ও গেজেট বাতিল হবে এবং প্রকৃত আহতরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।