চিলমারীতে সরকারী সার ও বীজ খোলা বাজারে বিক্রি

Nov 7, 2025 - 10:28
চিলমারীতে সরকারী সার ও বীজ খোলা বাজারে বিক্রি

চিলমারী প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সরকারি সার ও বীজ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সার ও বীজ উত্তোলন করে তা ফড়িয়া বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন নামধারী কৃষকরা। এতে সরকারি সেবা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এবং সচেতন মহল অভিযোগ করছে যে কৃষক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করার কথা ছিল। তবে চিলমারী উপজেলার ৬ ইউনিয়ন মিলে মোট ২ হাজার ৩০০ কৃষক ১ কেজি সরিষার বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার পেয়েছেন।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, কৃষি অফিস থেকে এসব সার ও বীজ উত্তোলন করে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা তা খোলাবাজারে বিক্রি করছে। একাধিক কৃষক নামমাত্র পরিচয়ে এসব পণ্য সংগ্রহ করছেন এবং আবার তা ফরিয়া বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময় বৃহস্পতিবার কৃষি দপ্তরের সামনে এক ফরিয়া ব্যবসায়ীকে সার ও বীজ ভর্তি একটি অটো নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। আরেক ব্যবসায়ীকে অফিসের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ফরিয়া ব্যবসায়ী জানান, তিনি দুটি বস্তা সার এবং পাঁচ প্যাকেট সরিষার বীজ ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় বলেন, “প্রতিটি ৫ জন কৃষক মিলে ২ প্যাকেট সরিষার বীজ এবং ২ বস্তা সার পাচ্ছেন। তবে সরকারি সার ও বীজ বিক্রির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে, কারণ প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর এর ফলে ফড়িয়াদের হাতে সরকারি পণ্য চলে যাচ্ছে। প্রশাসন থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।