ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হার, মাঠেই কাঁদলেন নেইমার
খেলা ডেস্কঃ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারের সাক্ষী হলেন ব্রাজিল ফুটবলের রাজপুত্র নেইমার। আজ সকালে ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরি’আর ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছে তার ক্লাব সান্তোস।
নেইমার সান্তোসের পুরোনো খেলোয়াড়। সান্তোসের জার্সি গায়ে এটি ছিল তার ২৫০ তম ম্যাচ। এজন্য খেলা শুরুর আগে নেইমারকে দেওয়া হয় ‘২৫০’ লেখা বিশেষ জার্সি। তার হাতেও তুলে দেওয়া হয় বিশেষ এক স্মারকলিপি। ভক্তদের আশা ছিল, এই জার্সি গায়ে সান্তোসের জন্য কাঙ্খিত জয় এনে দিবেন তিনি। কিন্তু খেলা শুরুর পর সব বদলে যেতে থাকে। ভাস্কো দা গামা গোল উৎসব শুরু করে ১৮ মিনিটে, লুকাস পিটন দলের প্রথম গোল করেন। প্রথমার্ধে ১-০ এগিয়ে থাকে ভাস্কো। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসের রক্ষণে ঝড় তুলে ভাস্কো একে একে পাঁচটি গোল করে। লিভারপুল ও বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড কোতিনহো ৫৪ এবং ৬২ মিনিটে দুটি গোল করেন। তার আগে, ৫২ মিনিটে ডেভিড একটি গোল করেন, যার ফলে ভাস্কো ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ৬০ মিনিটে রায়ান রোচা পেনাল্টি থেকে গোল করে ভাস্কোকে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ৬৮ মিনিটে দানিলো নেভেসের গোল ভাস্কোর গোল উৎসবে আরও যোগ করে, শেষমেশ স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-০ তে। ঘরের মাঠে ৫০ হাজার সমর্থকদের সামনে লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারের সান্তোসকে। এত বড় হারে নিজেকে আর সামাল দিতে পারলেন না নেইমার। মাঠে বসেই কাঁদতে শুরু করলেন। কয়েকজন এগিয়ে এসে চেষ্টা করলেন সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু তার কান্না যেন থামছিল না।
ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা প্রকাশ করে নেইমার বলেন,‘আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে আমি সম্পূর্ণ হতাশ। সমর্থকদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে তবে সেটা সহিংসতা ছাড়া হওয়া উচিত। যদি তারা গালি দেয় বা অপমান করে সেটাও তাদের অধিকার।’ তিনি আরও যোগ করেন,‘এটা চরম লজ্জার অনুভূতি। জীবনে কখনো এমন কিছু হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এবার হলো। কান্না এসেছিল রাগ থেকে, যা ঘটেছে তার সবকিছুর জন্য। দুর্ভাগ্যবশত, আমি সবদিক থেকে সাহায্য করতে পারিনি।’
সান্তোসের এই বড় হারের কিছুক্ষণ পরই ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রধান কোচ ক্লেবার হাভিয়েরকে বরখাস্ত করেছে। এক বিবৃতিতে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়ে হাভিয়েরকে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, এই ম্যাচের আগে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হার ছিল ৪–০ গোলের। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সান্তোসে খেলার সময় বার্সেলোনার বিপক্ষে (ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ) এবং ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে বার্সেলোনায় খেলার সময় পিএসজির বিপক্ষে (চ্যাম্পিয়নস লিগে) এমন হারের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি।