মেঘনায় ইলিশের আকাল কষ্টে দিনাতিপাত করছে মৎস্যজীবীরারা
হাবিবুর রহমান,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
১৫ থেকে ১৮ বছর ধরে মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ শিকারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকার সোলাইমান মাঝি। চলতি বছরের মতো এত মাছ সংকট কখনও দেখেননি তিনি। তার ভাষ্য, এ অবস্থা চলতে থাকলে পুঁজি উঠবে না তার। তার মত অনেকে সুদে ঋণ আর মহাজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে মাছ আহরণ করতে এসেছেন। এবার নদীতে পর্যাপ্ত মাছ না পেলে তারা সে টাকা কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মেঘনা উপকূলের জেলেরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেড় মাস ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনানদীর উপকূলে ইলিশ মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, লুধুয়া মাছঘাট ও মাতাব্বরহাট এলাকায় গত নভেম্বর মাস থেকে মৎস্য আহরণ মৌসুমে মৎস্যজীবী ও জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পাননি। এতে হতাশা ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন তারা। মৎস্য বিভাগের রাজস্ব আয়েও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলেরা পর্যাপ্ত ইলিশ মাছ না পাওয়ায় মৎস্য বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে বলে স্বীকার করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য শাহা। তিনি বলেন, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর তোড়ে সমুদ্র ও মেঘনা নদী উত্তাল রয়েছে। অন্যবার এ সময়ে প্রায় কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। এবার অনেকটা কমে গেছে।
জেলে, মৎস্যজীবী ও মৎস্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবার এ সময়ে জেলে ও মৎস্যজীবীরা নৌকা ও ট্রলারে করে মেঘনা নদী পার হয়ে সাগর থেকে মাছ আহরণ করতেন। কিন্তু এবার৷ ইলিশের অবস্থা খুবই নাজুক। সামান্য কিছু মাছ পড়ে, যা দিয়ে তাদের খরছও উঠছেনা।
লুধুয়া মাছঘাট এলাকার জেলে হোরন মাঝি (৪৮) ও মোতালেব মাঝি (৫৩)। দু’জনই মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে গেছেন মাছ ধরতে। কিন্তু দু’মাস ধরে চাহিদামতো তারা মাছ পাননি। অনেক দিন খালি ট্রলার নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। তারা বলেন, গত বছর মৌসুমের প্রথম দু’মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরেছেন। এবার একই সময়ে ৩-৪ লাখ টাকার মাছ পেয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। তাদের মতো প্রায় সব জেলে একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এ সময় পুরো উপকূলীয় এলাকায় জেলে ও মৎস্যজীবীরা নানা কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করতেন। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন।জেলে ও মৎস্যজীবীরা মাছ সংকটে বিপদে পড়েছে। এতে জেলে ও মহাজনরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এখন সাগর ও নদীতে মাছ কম ধরা পড়লেও সামনে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করেন কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা । তিনি বলেন, বিস্তারিত জানতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে শিগগির মেঘনা নদী এলাকা পরিদর্শন করবেন। এবং সমস্যা চিহ্নিত করে তা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।