আদানিকে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে বলেছে পিডিবি

Feb 12, 2025 - 14:30
আদানিকে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে বলেছে পিডিবি

অনলাইন ডেস্কঃ গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিছু কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি আছে। শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। এ পটভূমিতে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা এলাকায় নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। শীতে চাহিদা কম থাকায় তিন মাস ধরে একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন ৭৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। আজ-কালের মধ্যে সরবরাহ বাড়তে পারে।

পিডিবির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, পিডিবির চাহিদার ভিত্তিতেই গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার পর কিছুটা কারিগরি ত্রুটির কারণে আবার বন্ধ করা হয়। ত্রুটি মেরামতের পর আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু হতে পারে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লাভিত্তিক। এতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২৫ বছর ধরে কিনবে বাংলাদেশ। প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় একই বছরের জুন মাসে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমেছে ৭০ কোটি ডলারের বেশি। এ নিয়ে চিঠি-চালাচালি করছে আদানি ও পিডিবি। সবশেষ গত জানুয়ারিতে চিঠি দিয়ে বকেয়া শোধে আগামী জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে আদানি।

পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, শীতে চাহিদা কম থাকায় আদানির একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়। এখন আবার চালু করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এখন নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে বকেয়া পরিশোধ হচ্ছে, এটি চলমান থাকবে।

তবে আদানির সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের করা অসম চুক্তি নিয়ে বিতর্ক আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া আদানির চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করতে এক মাসের মধ্যে কমিটি গঠন ও পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে গত ১৯ নভেম্বর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বর্তমানে প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করছে কমিটি।

পিডিবি সূত্র বলছে, আদানির চুক্তিতে সবচেয়ে বড় অসংগতি কয়লার দাম নিয়ে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নির্ধারণ নিয়ে পিডিবির সঙ্গে আদানির বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। চুক্তিতে উল্লেখিত সূত্র অনুসারে কয়লার দাম হিসাব করছে আদানি। আর কয়লার প্রকৃত দাম ধরে বিল হিসাব করছে পিডিবি।