জলঢাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি,বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
বিধান চন্দ্র রায়, দ্যা ডেইলি ইমেজ বিডি প্রতিবেদকঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান,ভুট্টার ক্ষেত, আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা ও সুপারি সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল-ফলাদি এবং বনজ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এ সময় ঝড়ে বাড়িঘর বিধ্বস্তের খবর পাওয়া গেছে। গাছপালা উপড়ে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) ও সোমবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের সাথে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।প্রায় কয়েক ঘন্টাব্যাপী চলা এ ঝড় ও মৃদু শিলাবৃষ্টি ব্যাপক তান্ডব চালায়।বিদ্যুতের খুটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন রয়েছে।অনেক এলাকায় সড়কের ওপর গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে যান চলাচল সচল করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, উপজেলা জুড়ে কালবৈশাখীর ঝড়ে প্রায় ২৮ হেক্টর বোরো ধান, ৩ হেক্টর ভুট্টা ও ১ হেক্টর শাক-সবজি হেলে পড়েছে। তাছাড়া আম,কাঁঠাল, লিচু, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়েছে। গাছপালা উপরে/ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এদিকে উপজেলার কাশিনাথপুর,বালাগ্রাম ,নেকবক্ত,শৌলমারীসহ বেশ কিছু গ্রামে গাছপালা উপড়ে ও বাতাসে বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের ধানচাষী সেরাজুল ইসলাম জানান,গতকালের শিলাবৃষ্টিতে তার ১ বিঘা পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।ধান গাছের অনেক ফুল নষ্ট হয়েছে।ভূট্টা চাষী স্বাধীন রায় জানান,ভূট্টা ঝড়ে হেলে পড়ে পানিতে নষ্ট হতে বসেছে।তারা ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।বিশেষ করে, উপজেলার গোলমুন্ডা,তিলাই,নেকবক্ত,শৌলমারী,কৈমারী,গাবরোল,খামাতসহ প্রায় কয়েক গ্রামের ২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এই উপজেলায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন।পাশাপাশি ক্ষেতের কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য পরামর্শ অব্যাহত রেখেছেন।