বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের সপ্ন
অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ
উজানে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢল ও কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একের পর এক বাঁধ ভেঙ্গে ডুবে গেছে শত শত মাছের ঘের। স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রেল লাইন ও হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। আর এরই প্রভাবে শেষ হয়ে গেছে বন্যাকবলিত এলাকায় প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্ন।
সরকারের কৃষি বিভাগ বলছে, দেশে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১২টি জেলার আমন ধান, আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও শাকসবজির চাষাবাদ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবারের বন্যায় যে পরিমাণ আউশ ও আমনের জমি আক্রান্ত হয়েছে তাতে করে অন্তত সাড়ে ৮ লাখ টন চালের উৎপাদন নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেসব ধানের জমি আক্রান্ত হয়েছে সেগুলোতে ধানের উৎপাদন পুরোপুরিই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এর বাইরে ১৯ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করা ছিল, যা পুরোপুরি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ধান, শাকসবজি, আদা, হলুদ, মরিচ, ফলবাগান, তরমুজ, পেপে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও টমেটো, পান, আখ-সহ এবারের বন্যায় ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এই তালিকায় ধানের পরেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাকসবজির উৎপাদন,- যেগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ এখনো টাকার অঙ্কে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করেনি।
এদিকে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব করা সম্ভব হয়েছে। দেশের ১২ জেলায় চলমান বন্যায় গবাদিপশু, হাস-মুরগি, পশুখাদ্য এবং মাছ ও মাছের পোনা, অবকাঠামো সহ এই খাতে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খাদ্য এবং অন্যান্য পশুখাদ্য বিনষ্ট হয়েছে। দুধ, ডিম, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ এখন পর্যন্ত এ খাতে ৪১১ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।