চার দিনের সফরে যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ মর্যাদাপূর্ণ ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে চার দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামী ৯ জুন লন্ডন পৌঁছাবেন তিনি। সফর শেষে ১৩ জুন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ১৪ জুন সকালে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
ড. ইউনূসের এ সফরকে সরকারি সফর হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। সফরকালে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লস ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
১১ জুন লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
বিশেষ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে লন্ডনের সহায়তা চাওয়া হবে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের সমর্থন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের নৃশংসতার বিচার ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হবে।
১২ জুন বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ড. ইউনূস। ওইদিন বিকেলে সেন্ট জেমস প্রাসাদে রাজা চার্লসের হাত থেকে ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন তিনি।
১১ জুন ড. ইউনূস অংশ নেবেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজ আয়োজিত এক সংলাপে। সংলাপের প্রতিপাদ্য— ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পথে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ‘কিংস ফাউন্ডেশন’ ২০২৩ সালে এই সম্মাননা চালু করে। ২০২৪ সালে পুরস্কারটি পেয়েছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন।
ড. ইউনূসের লন্ডন সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন।সরকারি একটি সূত্র জানায়, সফরসূচিতে একটি ‘উইন্ডো’ রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক সম্ভব হয়। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক মহলে ড. ইউনূস–তারেক বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।